ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মন্দির, ধর্মীয় ট্রাস্ট ও আধ্যাত্মিক সংগঠনের অর্থায়নে বেশ কয়েকটি দাতব্য হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের বিনামূল্যে অথবা অত্যন্ত কম খরচে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও জটিল অস্ত্রোপচার, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পুনর্বাসন সেবাও বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে।
তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমের হাসপাতাল
অন্ধ্রপ্রদেশের বিখ্যাত তিরুপতি বালাজি মন্দিরের পরিচালনাকারী সংস্থা তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (TTD) ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায়ও বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে। TTD-এর অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (SVIMS) এবং বালাজি ইনস্টিটিউট অব সার্জারি, রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফর দ্য ডিজ্যাবল্ড (BIRRD)। TTD-এর তথ্য অনুযায়ী, SVIMS-এ বিভিন্ন সুপার-স্পেশালিটি চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং BIRRD দরিদ্র ও অসচ্ছল রোগীদের জন্য উন্নত অর্থোপেডিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা দিয়ে থাকে।
TTD-এর স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্কে শিশুদের হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য শ্রী পদ্মাবতী চিলড্রেনস হার্ট সেন্টার এবং তিরুমালায় অশ্বিনী হাসপাতালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
শ্রী সত্য সাঁই সেন্ট্রাল ট্রাস্টের হাসপাতাল
অন্ধ্রপ্রদেশ ও কর্ণাটকে শ্রী সত্য সাঁই সেন্ট্রাল ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত শ্রী সত্য সাঁই ইনস্টিটিউট অব হায়ার মেডিকেল সায়েন্সেস (SSSIHMS) বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, প্রাসান্তিগ্রাম ক্যাম্পাসে রোগীদের রোগ নির্ণয়, অস্ত্রোপচার, বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি, ওষুধ ও খাবারসহ চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা জাতীয়তার ভিত্তিতে রোগীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয় না।
জগদগুরু কৃপালু পরিষদের দাতব্য হাসপাতাল
উত্তর প্রদেশে জগদগুরু কৃপালু পরিষদ (JKP) পরিচালনা করছে তিনটি বড় দাতব্য হাসপাতাল—মাঙ্গড়, বারসানা ও বৃন্দাবনে জগদগুরু কৃপালু চিকিৎসালয়।
JKP-এর তথ্য অনুযায়ী, এসব হাসপাতালে চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ এবং ফলোআপ সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। মাঙ্গড় হাসপাতাল ৭৫ শয্যাবিশিষ্ট, বারসানা হাসপাতাল ৩০ শয্যাবিশিষ্ট এবং বৃন্দাবনের হাসপাতাল ১০০ শয্যাবিশিষ্ট। এসব প্রতিষ্ঠানে অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, ন্যাচারোপ্যাথি, ফিজিওথেরাপি ও অন্যান্য চিকিৎসাসেবা রয়েছে।
দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনামূল্যে ওষুধ, রোগ নির্ণয়, অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পাশাপাশি এসব হাসপাতালে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ক্যাটারাক্ট সার্জারির ক্যাম্পও আয়োজন করা হয়।
আরও কয়েকটি ধর্মীয় ও দাতব্য উদ্যোগ
ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মন্দির ও ধর্মীয় ট্রাস্টের অর্থায়নে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মধ্যে সিদ্ধিবিনায়ক গণপতি মন্দির ট্রাস্ট, BAPS স্বামীনারায়ণ সংস্থা এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দাতব্য চিকিৎসা কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য।
তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সব চিকিৎসা যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে—এমন দাবি সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। হাসপাতালভেদে বিনামূল্যে, ভর্তুকিযুক্ত বা নামমাত্র মূল্যের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে পারে। তাই চিকিৎসা নিতে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের বর্তমান নিয়ম, যোগ্যতা ও সেবার ধরন যাচাই করা জরুরি।
মানবসেবায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়নে পরিচালিত এসব হাসপাতাল ভারতের স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জটিল অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরি হওয়ায় এসব হাসপাতাল অনেক মানুষের জন্য চিকিৎসার বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করছে।
TTD, শ্রী সত্য সাঁই সেন্ট্রাল ট্রাস্ট এবং জগদগুরু কৃপালু পরিষদের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম দেখায়—ধর্মীয় ও দাতব্য তহবিলকে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহার করে সমাজের অসচ্ছল মানুষের জন্য বড় পরিসরে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।