নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:
আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা বৃত্তি পুনরায় চালু এবং পড়াশোনা শেষে চাকরির ব্যবস্থা করার দাবিতে বগুড়ার শেরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বেলা ১১টায় উপজেলা চত্বরে আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, বগুড়া জেলা কমিটির উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সমতলের আদিবাসীরা স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। বগুড়ার শেরপুর এলাকায় তুরি, মাহাতো, বাগদী, সাঁওতাল, ভূমিজ, তেলী, বর্মণ, কোচ, মুসহর ও গঞ্জুসহ ১৫টির বেশি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। এতগুলো জাতিগোষ্ঠীর বসবাস থাকলেও তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও চর্চার জন্য এলাকায় কোনো আদিবাসী কালচারাল একাডেমি নেই।
বক্তারা বলেন, আদিবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মাধ্যমে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা বৃত্তি পুনরায় চালু এবং পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
মানববন্ধনে সাগর কুমার সিংয়ের সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির সভাপতি সুজন কুমার রাজভরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি সন্তোস সিং বাবু, সহসভাপতি যুগেশ সিং, সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র কর্ণিদাস, শেরপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি স্বপন সিং, সাধারণ সম্পাদক হিরালাল সিং, নন্দীগ্রাম উপজেলা কমিটির সভাপতি গৌতম চন্দ্র মাহাতো, শেরপুর উপজেলা কমিটির উপদেষ্টা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক লিটন হক, ধুনট উপজেলার আদিবাসী নেতা পূর্ণ চন্দ্র রায় বাগদী ও সুবধন চন্দ্র সরকার।
এ সময় আদিবাসী ছাত্র পরিষদ বগুড়া জেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি উত্তম কুমার সিং, উপজেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি বিপ্লব কুমার মাহাতো, সহসভাপতি সোহাগ কুমারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ বগুড়া জেলা কমিটির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ও কমিটি বহাল থাকা সত্ত্বেও নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা কমিটির সভাপতি সুজন কুমার রাজভর, সাধারণ সম্পাদক সাগর কুমার সিং ও সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রী নিত্য মালো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সভাপতি সুজন কুমার রাজভর বলেন, “আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি আদিবাসী ছাত্রসমাজের অধিকার, শিক্ষা, সংস্কৃতি, ঐক্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একটি সাংগঠনিক প্ল্যাটফর্ম। ব্যক্তিগত স্বার্থ, পদ-পদবি কিংবা প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সংগঠনকে বিভক্ত করার যেকোনো উদ্যোগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
মানববন্ধন থেকে নেতারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।